বৃহস্পতিবার, ২৯ জুন২০১৭, ১৫ আষাঢ়১৪২৪, দুপুর ১:২০

Space for ad

Space for ad

Homeহোটেল সংবাদবাকুকুকু রেস্তোরাঁ ও মালাতালেই গ্রাম
Bakukuku04_916869183

বাকুকুকু রেস্তোরাঁ ও মালাতালেই গ্রাম


Bakukuku04_916869183প্রচুর পর্বত ও হাল্কা বনানীতে পূর্ণ আফ্রিকার ছোট্ট রাজ্য লিসোটো- তে কিছুদিন হলো আমি বাস করছি। লিসোটোর রাজধানী হচ্ছে মাসেরু। শহরটি জনবহুল নয় একেবারে। তার ভীড়ভাট্টাহীন রাজপথ ধরে সুহৃদ মি. মোজাফেলাকে সাথে নিয়ে আমি মি. কাগেতাং কতসোফালাং নাকানে-র সাথে দেখা করতে চলছি। মি. নাকানে মাসেরু শহরে যে বাড়িটি হাঁকিয়েছেন তা আকারে বিরাট। ছাটা ঘাসের লনের প্রান্তে কলোনিয়েল কেতার ভিলা। পিছনের আঙিনায় তিলতলা বিজনেস আউটলেট। ওখানে একতলায় একটি হলরুমে বসে আমরা তার সাক্ষাতের অপেক্ষা করি। পেশায় মি. নাকানে ব্যবসায়ী। এক সময় চালাতেন ছোটখাটো একটি মুদির দোকান। গেল বারো চৌদ্ধ বছরে তার তেজারতী, কায় কারবার অ্যায়সা বিশাল হয়েছে যে- তিনি পঁচিশ তিরিশ জন কর্মচারী মাস চুক্তি মাইনা দিয়ে রেখেছেন। মি. নাকানের সাথে আমার পরিচয় সল্প। তার স্ত্রী মিসেস থাবেলাং বনোলো অনেক বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে বয়স্ক শিক্ষার উপর একটি প্রশিক্ষণে যোগ দিতে আসেন। আমি প্রশিক্ষক হিসাবে সেখানে কাজ করছিলাম, সে সূত্রে তার সাথে পরিচিত। মিসেস বনেলো প্রশিক্ষণের পর লিসোটো ফিরে না গিয়ে কীভাবে যেন ইমিগ্রেসনের জুট ঝামেলা চুকিয়ে গ্রীনকার্ড পেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন দশ কিংবা বারো বছর। তখন তার সাথে আমার মাঝে সাজে দেখাসাক্ষাৎ হতো। আমি আমহার্স্ট বলে যুক্তরাষ্ট্রের যে ছোট্ট শহরে বাস করতাম ওখানে মিসেস বনেলো বাকুকুকু নামে আফ্রিকান খাবারের রেস্তোরাঁ খুলেছিলেন। রেস্তোরাঁর কাউন্টারে রাখা ছিলো চমৎকার কিছু পোড়ামাটির তৈজসপত্র-যা আমেরিকান ক্রেতাদের আকর্ষণ করতো। দেয়ালে লাগানো বিশাল একটি ল্যান্ডস্কেপে সূর্যময় সন্ধ্যায় চরে বেড়ানো তিনটি জিরাফের ইমেজও ক্রেতারা আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে দেখতো। লাগোয়া আউটলেটে চলতো তার অন্য সাইড বিজনেস, সাজানো থাকতো আফ্রিকান হস্তশিল্প তথা কাঠ ও পাথর কুঁদে তৈরী মূর্তিরাজি। এগুলো পেছনে ঝোলানো থাকতো চমৎকার কিছু মুখোশ। এ সব পণ্য সম্ভার এর জন্য তার রেস্তোরাঁর ব্যবসা চলছিলো জমজমাট। মিসেস বনেলো একবার তার স্বামী মি. নাকানেকে মাস খানেকের সাময়িক ভিসার বন্দোবস্থ করে নিয়ে এসেিেছলেন আমহার্স্টে। তখন তাকে আমার সাথে সামাজিকভাবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। সে পরিচয়ের সূত্র ধরে মি. নাকানে যদি আজ আমাকে চিনতে না পারেন, তাহলে তাজ্জব হবো না একেবারে।

মি. নাকানের ব্যাপারে আমার আগ্রহ কম। আজ আমি মূলত মিসেস বনেলোর সাথে দেখা করতে তার পার্মিশন নিতে এসেছি। কয়েক বছর আগে মিসেস বনেলোকে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন বিভাগ কাগজপত্রে জালিয়াতীর অভিযোগে দেশত্যাগে বাধ্য করে। তিনি ফিরে আসেন তার পৈতিক নিবাস লিসোটোর মাসেরু শহরে। আমি লিসোটোতে মূলত ফিরে এসেছি আমার জানাশোনা মানুষজন, মি. মোজাফেলা, কিংবা মিসেস বনেলো সবই- কে কেমন আছেন তা সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে। আমার আগ্রহ সময়ের চলমান প্রবাহে তারা কে কতোটা বদলে গেছেন তার একটি পরিষ্কার খতিয়ান পেতে।

আমার সাথে প্রাইভেট ডিটেকটিভ মি. মোজাফেলাও এসেছেন। আমি মি. নাকানের সাথে যোগাযোগ করতে চাচ্ছি জানতে পেরে মি. মোজাফেলা তার গেল বারো চৌদ্ধ বছরে ব্যবসার বিস্তার সম্পর্কে বেশ কিছু তথ্য সংগ্রহ করে লাল ফিতা দিয়ে পেচিয়ে একটি ফাইল তৈরী করেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের আমহার্স্ট শহরে মিসেস বনেলোর জীবনযাপন সম্পর্কে জানতে ব্যাপকভাবে আগ্রহী। আমি তাঁকে কথা দিয়েছি যে তথ্যগুলো গুছিয়ে লিখে তাঁর হাতে দেবো মি. নাকানের সাথে দেখাসাক্ষাৎ হওয়ার আগেই। তাহলে তিনি বিশ্লেষন করতে পারবেন আদতে কোন পরিস্থিতিতে মিসেস বনেলোর জীবনে কী ঘটেছে?

মি. নাকানের সাথে আমাদের দেখা করার ডাক আসছে না, তার অপেক্ষায় আমাদের আগে এসে আরো কয়েকজন মানুষ অনেকটা ডাক্তারের চেম্বারে অপেক্ষা করার মতো হলরুমে বসে আছেন। হাতে সময় আছে, তাই এ সুযোগে আমি মিসেস বনেলো সম্পর্কে স্মৃতিভিত্তিক যে রিপোর্ট তৈরী করেছি তা খতিয়ে দেখি। অনেক বছর আগে যখন মিসেস বনেলো আমহার্স্ট শহরে প্রশিক্ষণে আসেন তখন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর সন্ধেবেলা ডান্সের আয়োজন হলে তিনি শুধু নৃত্যকলাই নয়, সঙ্গী ডান্সপার্টনার পুরুষটিকে সুযোগ মতো একাধিকবার চুমো খেয়ে ঈষৎ আলোচিত হয়েছিলেন। সে যুগে তার শরীরের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অঙ্গ ছিলো দীর্ঘ পা জোড়া। তিনি সাপের মোটিফ আঁকা টাইটস্ পরে আসরে নেমেছিলেন। নৃত্যকলায় তার ঊরু যুগলের কাজ এতোই অসাধারণ ছিলো যে-ডিসকো বাতির বর্ণাঢ্য আলোয় মনে হচ্ছিলো যুগল শঙ্খচুড় যেন মেতেছে মিথুন মুদ্রায়। ডানসিং ঈভেন্টের পর আমরা রাত কাটাই একটি ডরমিটরিতে। রাত বারোটার দিকে কামরায় ফেরার সময় দেখি মিসেস বনেলো লাটভিয়া থেকে আগত আরেক সুপুরুষের বাহুলগ্না হয়ে টেবিলল্যাম্প নিভিয়ে বসেছেন লবির কাউচে। আমার সাথে চোখাচুখি হতেই তিনি ভোদকার বোতল হাতে নিয়ে গোলাপপাশ থেকে সুরভিত জল ঝরানোর মতো ছিটিয়ে দিয়েছিলেন কড়া ধাচের কিছু সুরা।

Bakukuku_558861460

About admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

আপনি চাইলে এই এইচটিএমএল ট্যাগগুলোও ব্যবহার করতে পারেন: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>

এই মাত্র পাওয়া