শুক্রবার, ১৮ই আগস্ট, ২০১৭ ইং, ৩রা ভাদ্র, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সকাল ১১:০৩
Homeপর্যটন সংবাদস্বল্প দৈর্ঘ্যের এই দেশ ভ্রমণ করে যুগে যুগে মুগ্ধ হয়েছেন ভ্রমণকারীরা :মোহাম্মদ মুসা

স্বল্প দৈর্ঘ্যের এই দেশ ভ্রমণ করে যুগে যুগে মুগ্ধ হয়েছেন ভ্রমণকারীরা :মোহাম্মদ মুসা

টুরিজমনিউজ২৪ডটকম সাথে একান্ত আলাপ/স্বাক্ষাতকার দিয়েছেন ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার এন্ড টেকনোলজি (আইইউবিএটি) বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ অব টুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট এর কো-অর্ডিনেটর   মোহাম্মদ মুসা, স্বাক্ষাতকার নিয়েছেন মোঃ আবু হানিফ

photo_mm

বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প ও আপনার কি ভাবনা ?

নদীমাতৃক দেশ আমাদের এই বাংলাদেশ। নয়নাভিরাম চিরসবুজের দেশ আমাদের এই বাংলাদেশ। আর এরই সাথে তাল মিলিয়ে সমৃদ্ধ বাংলার ইতিহাস, ঐতিহ্য আর সংস্কৃতি। আর যার ফলে বাংলাদেশ একটি পর্যটন গন্তব্য হিসেবে সমালোচিত অন্যান্য দেশ গুলোর কাছে। তুলনামূলক স্বল্প দৈর্ঘ্যের এই দেশ ভ্রমণ করে যুগে যুগে মুগ্ধ হয়েছেন ভ্রমণকারীরা। বাংলাদেশের ভৌগলিক অবস্থানও বেশ চমৎকার। এই বাংলাদেশেই আছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বেলাভূমি যা কক্সবাজারে অবস্থিত। রয়েছে ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবন, উত্তরে রয়েছে অনেক প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা। আদিবাসী গোষ্ঠী আর আদিবাসী সংস্কৃতি আর এর সাথেই উঁচু পাহাড়ে ঘেরা সবুজ বনভূমি অঞ্চল পার্বত্য চট্টগ্রাম, যা ট্র্যাকিং কিংবা হাইকিং এর জন্য আদর্শ। রয়েছে কার্পেটের মতো করে উঁচু নিচু পাহাড়ের উপর বিছানো মাইলের পর মাইল চিরহরিৎ বৃক্ষ চা, আর এই বিশাল চা বাগান অবস্থিত সিলেটে। এছাড়াও রয়েছে মনপুরা, নিঝুম দ্বীপ, কুয়াকাটা সহ আরও অনেক অনেক জায়গা। যেখানে গেলে মনে হয় রূপকথার গল্প থেকে উঠে আসা কোন স্থান।

যদি কক্সবাজারের দিকে আমরা তাকাই তবে, নিঃসন্দেহে কক্সবাজার বাংলাদেশের অন্যতম একটি পর্যটন কেন্দ্র। একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে শুধু ঈদ উপলক্ষেই কক্সবাজারে আগমন ঘটে প্রায় ৪ লক্ষ পর্যটকের। আর এই জন্য ঢালাও প্রস্তুতি হিসেবে সাজাতে হয় ৪ শতাধিক হোটেল মোটেল গেস্ট হাউসকে। বর্তমান সমীক্ষা অনুযায়ী প্রতি বছরে কক্সবাজার ভ্রমণে আসেন ত্রিশ লক্ষ ভ্রমণ পিয়াসী মানুষ। মজার বিষয় হল আমাদের ১২০ কিমি বিস্তৃত সৈকতের মধ্যে আমরা এখন পর্যন্ত মাত্র ৩কিমি সৈকত ব্যাবহার করছি। আর বাকী ১১৭কিমি বিশাল সৈকত ব্যাবহার ছাড়াই পড়ে রয়েছে। পূর্বে উল্লেখিত ত্রিশ লক্ষ ভ্রমণকারীর আগমন কিন্তু এই স্বল্প দীর্ঘের সৈকতের জন্য অর্থাৎ তিন কিলোমিটারের জন্য।  সুতরাং আমরা একটু চিন্তা করলেই বলতে পারি বাকী ১১৭কিমি অর্থাৎ টেকনাফ থেকে ইনানি বিচ পয়েন্ট পর্যন্ত যদি কাজে লাগানো যায় তবে আরও কি পরিমাণ পর্যটক আনাগোনা বাড়বে তা একটু ভাবলেই আমরা বলে দিতে পারি। আর এই পুরো বেলাভূমির এক পাশে রয়েছে বিস্তৃত সমুদ্র আর অন্য পাশে রয়েছে সুউচ্চ সবুজ পাহাড় আর বন।  আর সেই সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়াতে হবে হোটেল মোটেল গেস্ট হাউসের পরিমাণ। যা খুলে দিবে চাকরী এবং ব্যবসাহিক চিন্তার নতুন দুয়ার। উন্নত চাকরীর খোঁজ যেমন মিলবে ঠিক তেমনই বাড়বে বৈদেশিক মুদ্রার পরিমাণ।

এতো গেলো শুধু কক্সবাজারের কথা। এরকম শতাধিক পর্যটন স্পট আছে বাংলাদেশে। আর এই স্পট গুলোকে যদি সত্যিকার ভাবে কাজে লাগানো যায় তবে খুলে যাবে পর্যটন শিল্পের অপার দুয়ার। বাড়বে বহুমাত্রিক পর্যটনে সাংস্কৃতিক, ইকো, স্পোর্টস, কমিউনিটি ও ভিলেজ ট্যুরিজম। সেই সাথে আরও বাড়বে দেশ বিদেশের ভ্রমণ পিয়াসীদের সমাগম।

সরকার, ব্যাংক গুলো এবং মোবাইল ব্যাংকিং সার্ভিস গুলোর সমন্বিত সহায়তায় যেসব স্থানে পর্যটক বেশী যায় সেসব স্থানের হোটেল মোটেল গুলোতে অনলাইনে বুকিং এবং টাকা পরিশোধের  কিভাবে ব্যবস্থা থাকতে পারে?

ছোট্ট একটি উদাহরণ দিয়ে ব্যাপারটা বুঝানো যায় বলে প্রথমেই উদাহরণ দিয়ে শুরু করা হল। এই ডিজিটাল যুগে বাস, ট্রেন, কিংবা প্লেনের টিকেট খুব সহজেই ঘরে বসে কাটা যায়। আর সেই সাথে ক্রেতা মোবাইল কিংবা কম্পিউটারে বসেই দেখে নিচ্ছেন তিনি কেমন সিট চান। এসি নাকি নন এসি, জানালার পাশে নাকি মাঝে, শুরুর দিককার সিট নাকি পেছনের দিকের সিট ইত্যাদি ইত্যাদি। সিট বুকিং দেবার পর তিনি চাইলে যেমন কার্ডের মাধ্যমে তৎক্ষণাৎ টাকা প্রদান করে দিতে পারেন তেমনই পারেন স্পটে হাতে হাতে টাকা দিতে।

এ ব্যাপারে সবচেয়ে যুগোপযুগি সিদ্ধান্ত হবে একটা সরকারী লাইসেন্স কৃত ওয়েবসাইটে দেশের সব ভালো এবং নামকরা সকল হোটেল, মোটেল এবং বাংলোর নাম এবং বিবরণী থাকবে। সে সঙ্গে থাকবে ঐ হোটেল কিংবা মোটেল কিংবা বাংলোর রুম নাম্বার সহ লে আউট। এতে করে যেমন ভ্রমনার্থিরা নিজের পছন্দ মতো রুম বুকিং দিতে পারবেন ঠিক তেমন ভাবেই জেনে নিতে পারবেন খরচের হিসাব। আর বুকিং দেবার ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রেশনের সময় ক্রেডিট কার্ড নাম্বার (সমতুল্য যেকোনো কার্ড হতে পারে) কিংবা রকেট অথবা বিকাশের মত মোবাইল ব্যাংকিং সার্ভিস গুলোর ইনফো জমা করে নেওয়া যেতে পারে। এর ফলে খুব সহজেই তৎক্ষণাৎ টাকা জমা দেয়া যেমন সম্ভব হবে অথবা স্পটে হাতে হাতে টাকা জমা দেয়াও খুব সহজ হয়। এতে করে অবশ্যই প্রত্যেক হোটেল, মোটেল এবং বাংলোকে নিজ নিজ উদ্যোগে ক্যাশ আউটের ব্যবস্থা রাখতে হবে। আর সেই সাথে যেখান থেকে ক্যাশ আউট করা হবে সেখানে বৃদ্ধি করতে হবে নিরাপত্তা। এতে করে বাড়বে যেমন সুবিধা ঠিক তেমনই বাড়বে মক্কেলদের আত্মতৃপ্তি।

এই পদ্ধতির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, টাকা হারানো, কিংবা ছিনতাই হবার ভয় থাকবে না।

পর্যটন বোর্ড ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মিলে পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে কি কি পদ ক্ষেপ নেওয়া উচিত অলে আপনি মনে করেন ?

যে সকল পদ ক্ষেপ পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে পর্যটন বোর্ড ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মিলে নেওয়া উচিত তা হল:

  • যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত অর্থাৎ ট্রেন কিংবা বাস উভয় পথই নিশ্চিত করা। পথঘাট প্রশস্ত করা এবং ভাঙ্গা রাস্তা দ্রুত মেরামত করা।
  • পুলিশ ও টুরিস্ট পুলিশের সংখ্যা বৃদ্ধি, এবং তাদের স্বতঃস্ফূর্ত মনোভাব।
  • ছিনতাই কিংবা ডাকাতি প্রবণ জায়গায় নিরাপত্তার পরিমাণ বাড়ানো।
  • দিনের বেলায় ফেরিওয়ালাদের উৎপাত আর পর্যটন স্পটে জিনিসপত্রের অসম্ভব দাম ইত্যাদি কারণে পর্যটকেরা অনুৎসাহিত হন। সুতরাং সরকারী পক্ষ থেকে প্রতিটি আনুষঙ্গিক জিনিসের দাম নির্ধারণ করে দেয়া এবং তা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে কিনা সেদিকে খেয়াল রাখা।
  • সরকারী হসপিটালের ডাক্তারদের টাইমটেবিলের দিকে লক্ষ রাখা এবং সেই সাথে একটি বোর্ড গঠন করা যেতে পারে। যাদের কাজই হবে সঠিক চিকিৎসা হচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত করা।
  • বান্দরবনের মতো এলাকায় গাইড ছাড়া ভ্রমণ প্রায় অসম্ভব। আর এই সুযোগে তারা গলা কাটা পারিশ্রমিক নিচ্ছে ভ্রমণ পিয়াসী মানুষদের কাছ থেকে। কখনো কখনো স্বীকার হতে হচ্ছে হুমকির কিংবা পড়তে হচ্ছে সম্মান হারানোর ঝুঁকিতে। এতে করে কমছে যেমন দেশীয় ভ্রমণ পিয়াসী, সেই সাথে বিমুখ হচ্ছে বিদেশী পর্যটক। তাই এই ব্যাপারগুলোতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
  • জলপথ ব্যাবহার করতে হয় যেসব রুটে যেমন ফেরী, লঞ্চ, নৌকা ইত্যাদি ইত্যাদি সেখানে প্রয়োজনের অধিক জীবন রক্ষাকারী সরঞ্জাম মজুদ রাখতে হবে।

পর্যটন শিল্প থেকে কি কি উপায়ে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব?

পর্যটনের ক্ষেত্রে বিদেশিদের দেশ ভ্রমণে আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন ধরনের সেবা ও সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে অর্থ সমাগম করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা হয়। পর্যটনে বিদেশি পর্যটক নিজের দেশ থেকে অন্য দেশে ভ্রমণে এসে থাকা-খাওয়া, যাতায়াত বিনোদন ইত্যাদিতে যে অর্থ ব্যয় করে, তা অন্য দেশের বৈদেশিক মুদ্রা হিসেবে অর্জিত হয়। পর্যটনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হোটেল, মোটেল ও অন্যান্য সহ সংস্থার অর্জিত অর্থ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, অন্যান্য রপ্তানির তুলনায় পর্যটনশিল্প থেকে আয়ের পরিমাণ দ্রুত বর্ধনশীল।

স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে ধীরে ধীরে বাংলাদেশ পর্যটকদের দৃষ্টি কাড়ে তার অপরূপ সৌন্দর্যে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০০১ সালে পর্যটন খাত থেকে বাংলাদেশ আয় করেছিল ২৬৫ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। ২০১০ সালে এসে আয় দাঁড়িয়েছে ৫৫৬ কোটি ২৭ লাখ টাকায়। বাংলাদেশ ভ্রমণকারী পর্যটকের সংখ্যা ২০০১ সালে ছিল দুই লাখ সাত হাজার ১৯৯ জন এবং ২০০৮ সালে এযাবতকাল সবচেয়ে সর্বোচ্চসংখ্যক চার লাখ ৬৭ হাজার ৩৩২ জন। ওয়ার্ল্ড ট্র্যাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম কাউন্সিলের প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০১২ সালে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) পর্যটনশিল্পের সরাসরি অবদান ছিল ২ দশমিক ১ শতাংশ। ২০২০ সালে তা বেড়ে দাঁড়াবে ৪ দশমিক ১ শতাংশ। ২০১২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পে কর্মসংস্থান হয়েছে প্রায় ২৭ লাখ লোকের। এর মধ্যে প্রায় ১৩ লাখ সরাসরি পর্যটনশিল্পের সঙ্গে জড়িত। ২০১৪ সালে কর্মসংস্থানের এই প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৮ শতাংশে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা দেশের মোট কর্মসংস্থানের ৩ দশমিক ২ শতাংশ। বর্তমানে বাংলাদেশকে সারা বিশ্বের দ্রুত বর্ধনশীল ১০টি পর্যটন মার্কেটের একটি হিসেবে ভাবা হচ্ছে। বর্তমানে বিশ্বে পর্যটকের সংখ্যা প্রায় ৯০ কোটি ধরা হচ্ছে। ২০২০ সালে এ সংখ্যা দাঁড়াবে ১৬০ কোটি। কারণ, মানুষের অবসর দিন দিন বাড়ছে আর হাতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে টাকা, যা খরচ করার জন্য পর্যটনকেই মানুষ বেছে নেবে। পর্যটন বিশেষজ্ঞদের মতে, এ বিপুল সংখ্যক পর্যটকের মধ্যে প্রায় ৭৩ শতাংশ ভ্রমণ করবে এশিয়ার দেশগুলোয়। বিশ্ব পর্যটন সংস্থার তথ্যমতে, ২০১৮ সালের মধ্যে এ শিল্পে ৩৫ কোটি ৭০ লাখ লোকের কর্মসংস্থান হবে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে অবদান রাখবে ১০ দশমিক ৫ ভাগ। বাংলাদেশ যদি এ বিশাল বাজার ধরতে পারে, তাহলে পর্যটনের হাত ধরেই বদলে যেতে পারে বাংলাদেশের অর্থনীতি।

বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের কি কি সমস্যা আছে বলে আপনার মনে হচ্ছে  এবং তার কি কি  প্রতিকার  হতে পারে?

বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় পর্যটনশিল্প বহুমুখী সমস্যার সম্মুখীন। সমস্যাগুলোর মধ্যে রয়েছে পর্যটন পণ্যের সংরক্ষণ ও নিরাপত্তার অভাব, অপ্রতুল অবকাঠামো ও অপর্যাপ্ত পর্যটন স্থাপনা, নিম্নমানের যোগাযোগব্যবস্থা, মানসম্মত আবাসনের অভাব, সমন্বিত পর্যটন আইন কাঠামোর অভাব, উপযুক্ত বিনোদনব্যবস্থার অভাব, সুষ্ঠু পর্যটন নীতিমালার অভাব, সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের অভাব, সাবলীল উপস্থাপনা ও প্রচারের অভাব। এসব সমস্যার সমাধানে সব পর্যটন স্থানের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি করা খুব দরকার। পর্যটন স্থানগুলোয় উন্নত মানের হোটেল, মোটেল ও বিনোদনের ব্যবস্থা করাতে হবে। দক্ষ ও পেশাদার জনবল তৈরি করতে হবে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, রাজনৈতিক অস্থিরতা দূর করতে হবে, যাতে পর্যটকেরা নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে। পর্যটনশিল্পের বিকাশের জন্য উদার দৃষ্টিভঙ্গি ও মুক্ত মনের প্রয়োজন। এ পদক্ষেপগুলোর যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমেই বাংলাদেশের পর্যটনশিল্প বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের এক উল্লেখযোগ্য খাতে পরিণত হতে পারে।

আগে কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, বান্দরবন ইত্যাদি নামকরা জায়গার প্রতি মানুষের আগ্রহ ছিল। কিন্তু অনেকেই এখন অপরিচিত সুন্দর কোনো জায়গা, নদীর ধারে কাশফুলের মাঠ কিংবা স্রেফ গ্রাম দেখতেও বেরিয়ে পড়ে। ঢাকা শহরের মানুষ আজকাল এমনকি মাওয়া ফেরিঘাটও দেখতে যায়, একদিনের ছুটি পেলে চলে যায় মানিকগঞ্জের পুরনো মসজিদ বা স্থাপনা দেখতে। গোলাপ ফুলের বাগান দেখতেও সাভারের গোলাপ বাগান জেতেও দ্বিধা করে না।

বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প দিন দিন দ্রুত হারে জনপ্রিয় হচ্ছে। বাংলাদেশের মানুষের ঘরকুনো বলে বদনাম দীর্ঘদিনের। তবে বর্তমানে প্রেক্ষাপট ভিন্ন। অনেকে এখন ছুটি গ্রামে না কাটিয়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অন্য কোথাও বেড়াতে যান। গত তিন-চার বছর ধরে ঈদের ছুটির সময়ে কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি বা বান্দরবনের হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টগুলো পরিপূর্ণ বলে পত্রিকাগুলোতে খবর বেরুচ্ছে। এমনও শোনা গেছে, হোটেলে জায়গা না পেয়ে অনেককে গাড়িতেই রাত কাটাতে হয়েছে। বেড়ানোর এই চিত্র কিছুকাল আগেও ভাবা যেত না। এই পর্জটন সেক্টর অবশ্যই এক অপার সম্ভাবনা।

About admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


উপরে